প্রসঙ্গ পুয়ের্তো রিকোঃ রিকার্ডোর টেক্সট মেসেজ সংকট এবং স্বাধীনতার লড়াই

ইতিমধ্যে সেখানকার চলতি সরকারের গভর্নর রিকার্ডো রসেলো-র একটি বিস্ফোরক পার্সোনাল টেক্সট মেসেজ এবং ভিডিও কল লিক আউট হয়েছে যেখানে রসেলো এবং তাঁর সতীর্কেথদের নারী বিদ্বেষী এবং সমকামী বিরোধী মনোভাব পোষণ করতে শোনা যায় যার ফলে সেখানকার সাধারণ মানুষের এক বিরাট প্রতিবাদের ঝড় নেমে এসেছে। রসেলো অবশ্য এই বিষয়ে সেরকম কোনো স্বীকারোক্তি এখনো দিয়ে ওঠেননি। কিন্তু জনরোষের চাপে ২রা অগাস্ট পদত্যাগ করার কথা জানিয়েছেন। পরবর্তী সম্ভাব্য গভর্নর পেদ্রো পিয়ের্লুইসি আদতে মূল ভূখণ্ডের অধিবাসী। ফলে তিনি দ্বীপটিতে নিউ প্রোগেসিভ এবং মূল ভূখণ্ডে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সদস্য। তিনি ১১৬তম মার্কিন কংগ্রেসেরও সদস্য! এই দুমুখো মূল ভূখণ্ডের দালাল পাদিল্লার স্ক্যান্ডেলকে কাজে লাগিয়ে জনরোষকে বিপথগামী করে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার পথেই হাঁটবে বলে জল্পনা রয়েছে। তাই স্বাধীনতার লড়াই এবং মার্কিন দাদাগিরি থেকে মুক্ত খেটে খাও-বাদীদের পরিচালিত রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রণয়নের লড়াই-ই একমাত্র বর্তমান ঋণ সংকট থেকে মুক্তি দিতে পারে।

ইকুয়াডোরের প্রেরণা দরকার পাপুয়া নিউ গিনিতে?: প্রসঙ্গ উপজাতিদের লড়াই

এখন প্রশ্ন হলো, গোটা পৃথিবী জুড়ে পাপুয়া নিউ গিনি, একুয়াডোর, ব্রাজিল এবং আফ্রিকার বিভিন্ন দেশগুলিতে যেখানে প্রায় অধিকাংশ উপজাতির মানুষগুলো সমাজের মূল ধারা থেকে বিচ্ছিন্ন, সেখানে নিজেদের হক ছিনিয়ে নেওয়ার লড়াইকে গোষ্ঠী দ্বন্দ্বের রূপ দিয়ে আসলে কি যুগ যুগ ধরে চলে আসা খেটে খাওয়া মানুষগুলোর উপরেই পুঁজিপতিদের ক্ষমতা কায়েমের রাস্তা তৈরী করা হচ্ছে?

চিনি সংকটে দেশঃ ঠুঁটো জগন্নাথ সরকার

বিগত আট বছরে ভারতে চিনির উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ৮-৯%। অর্থাৎ উৎপাদন নয় বিক্রি করে ওঠাই যে মূল সমস্যা তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু এই সমস্যার উৎপত্তি কোথায় সেই প্রশ্ন থেকেই যায়। আই.এস.এম.এ.-এর একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে চিনি প্রস্তুতকারক বৃহৎ সংস্থাগুলি (যেমন বলরামপুর চিনি মিলস্‌, ত্রিবেণী ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিস্‌, ডামিয়া ভারত সুগার অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিস্‌, ধামপুর সুগার মিলস্‌ ইত্যাদি) কিন্তু এই মন্দার বাজারেও বেশ ভালো পরিমাণ মুনাফা অর্জন করেছে। অন্যদিকে অধিকাংশ ছোট সংস্থাগুলি সরকারি সাহায্য পাওয়া সত্ত্বেও বাজারে পেরে উঠতে পারছে না। উত্তর প্রদেশেও এই চিনি সংকট দেখা দেওয়ায় মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ স্বীকার করে নিয়েছেন যে এ বছর দেশে রেকর্ড চিনি উৎপাদন সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির দাম পড়ে যাওয়ায় দেশের চিনি রপ্তানিতে ভাটা পড়ছে; তার জন্যই আখ চাষিদের এই দুরাবস্থা। উল্লেখ্য, মিল মালিকদের একটা বড় অংশ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সক্রিয় কর্মী। ভিট্টহাল ভিখে পাতিল সুগার কর্পোরেশানের মালিক রাধাকৃষ্ণ নিজে একজন কংগ্রেস নেতা। শরদ পাওয়ারের নিজেরই ব্রাজিলে একটি সুগার মিল রয়েছে। ফলে রাজনৈতিক চাপ কৃষকদের উপর আর্থিক দুরাবস্থার উৎসেচক হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারি ঋণ পেয়েও যেখানে মিল মালিকরা হরি কীর্তন করতে ব্যস্ত, সেখানে বাজার অর্থনীতির বিষাক্ত ফলই কেবল বরাদ্দ রইল মাঠে আখ চাষ করতে থাকা অ্যাডামদের।

বস্তিতে আবাসন প্রকল্প কি তৈরি করতে চলেছে উচ্ছেদের আরেক অধ্যায়?

কখনও ‘উন্নয়ন’, কখনও ‘সৌন্দর্যায়ন’-এর নামে খেটে খাওয়া মানুষের পেটে লাথি মারা তৃণমূল সরকার কার্যত অভ্যাস করে ফেলেছে। পাহাড় প্রমাণ দুর্নীতি, সাধারন মানুষের বরাদ্দ টাকা আত্মসাৎ করে দিনের পর দিন পকেট ভরাচ্ছেন তৃণমূল নেতারা। আর সাধারন মানুষের প্রাপ্য সেই টাকারই ৪৫০ কোটি দিয়ে প্রশান্ত কিশোরকে উড়িয়ে আনা হয়েছে তৃণমূলের ২০২১ ভোট বৈতরণী পার করবার জন্য।

অস্তাচলে বিএসএনএলঃ মোদি সরকারের কর্পোরেট প্রেমের ফসল

বেসরকারীকরনের খাঁড়া যে সব রাষ্ট্রায়াত্ত্ব সংস্থাগুলির উপর আসতে চলেছে সেই সারিতে একেবারে প্রথম দিকেই আসে ভারত সরকার অধিগৃহীত টেলিকম সংস্থা বিএসএনএল (ভারত সঞ্চার নিগম লিমিটেড)। ২০১৯ এর লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার আগে থেকেই ৪৫টি সরকারি ও আধাসরকারি সংস্থার বেসরকারিকরণের যে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল তার মধ্যে বিএসএনএল একটি। সরকারিভাবে কোনো ঘোষণা না হলেও এই খবর ছড়িয়ে পড়ে সরকারি দপ্তরের ভেতর থেকেই।

ইউ.এস-ইরান যুদ্ধ সংকটঃ মুনাফার ভারসাম্যের লড়াই?

বর্তমানে ডলার-পাউন্ড-ইউরো-ইয়েন মিলিয়ে ডেরিভেটিভ বাণিজ্যের নোশনাল অ্যামাউন্ট এদের মোট জিডিপি-র ৫৪২%, যার ম্যাচিউরিটির সময়ের মধ্যে দাম ও শ্রমের ভারসাম্য না আনা গেলেই আবার আসতে চলেছে অর্থনৈতিক মন্দা। ফলে, যুদ্ধ ছাড়া এত দ্রুত মুনাফার ভারসাম্য সম্ভব নয়। তৃতীয় স্থানে যুদ্ধ পরিচালনার স্ট্র্যাটেজি হিসেবে এই নয়াউদারবাদী যুগে পুঁজির আন্তর্জাতিক চরিত্রের কারণে কোনও একটি নির্দিষ্ট জাতির স্বজাতিমত্ততাকে উৎসাহিত করার বদলে কোনও একটি বিশ্বব্যাপী নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে খাটো করার পন্থা অবলম্বন করা হয়েছে। নব্বইয়ের দশক থেকেই গোটা পৃথিবী জুড়ে একটা বিশেষ ধর্মের প্রতি পৃথিবীবাসীর ঘৃণার পরিমণ্ডল সৃষ্টি করেছে সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলি যার ফলে বিশ্ব জুড়ে একটি নতুন শব্দের আমদানি হয়েছে- “ইসলামিক মৌলবাদ”। এই প্রকোপ থেকে বাদ পড়েনি ইরানও।

তৃণমূলের শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির কালপঞ্জি

শিক্ষক নিয়োগ হোক কিংবা নিযুক্ত শিক্ষকদের বেতন, কোনকিছুতেই মাথাব্যথা নেই রাজ্য সরকারের। শিক্ষা ব্যবস্থা এখন বিষ বাঁও জলে।

২০১৯ জি-২০ বৈঠকঃ বিশ্ব অর্থনীতির বিষ ফোঁড়া জোড়া-তাপ্পি দেওয়ার এক মরিয়া প্রয়াস

২০১৮-র গ্লোবাল নোশনাল ডেরিভেটিভ বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল গ্লোবাল জিডিপির ৫৪০%-এর কাছাকাছি! ফলে, ম্যাচিউরিটির সময়ের মধ্যে উৎপাদন দাম ও শ্রমশক্তির ভারসাম্য সৃষ্টি না হলে আবার নেমে আসতে চলেছে ভয়াবহ অর্থনৈতিক মন্দা। নয়াউদারবাদী যুগে বিশ্ব অর্থনীতির রুগ্ন দশাকে জোড়া-তাপ্পি দেওয়ার এই দিশাহীন বৈঠক কতক্ষণ নিজের গুরুত্বকে টিকিয়ে রাখতে পারে সেটাই এখন প্রশ্ন।

নারায়ণগড়ের ‘সুপ্রিম’-এর কারখানার শ্রমিকদের আন্দোলনকে দুর্বল করল বেইমান নেতৃত্ব

কোম্পানির তরফ থেকে মাথাপিছু দৈনিক মজুরি বরাদ্দ হয় ৪০০টাকা। কিন্তু শ্রমিকদের নসীব হয় মাত্র ২৭৮ টাকা। প্রাথমিকভাবে এর পরিমাণ ছিল মাত্র ২৫০টাকা। পূর্বে একাধিকবার বিক্ষোভ ও লাগাতার দাবীদাওয়ার ফলে তা বেড়ে ২৭৮টাকা হয়। বাকি টাকার হিসেবেই লুকিয়ে আছে এই ঠিকা কারবারের আসল গল্প।