এক
ই, ঈ গুলো এখন যেমন ইঁদুর ছানা আর ঈগল পাখি হয়ে গেছে সব, এক সময় তারা নন্দলাল বসুর ছবির মত একসাথে বসে ক্ষীর খই খেত। ল এ এখন যেমন সবাই লোভ বোঝে, তখন বুঝতো লেনিন। ক তে এখন যেমন কর্পোরেট, তখন ছিল কাস্তে। এইভাবে নভেম্বরের গোলাপী রোদ্দুরে সব অক্ষর, যুক্তাক্ষরেরা একসাথে তাদের মানে বদলে পরিণত হয়েছিল অমিত্রাক্ষর ঝড়ে। দ এ দুঃখ দুর্দশাগুলো আলো হয়ে দিশা দেখিয়ে ছিল। সব স এ এখন সভ্যতার পরে একটা হ এর হাত ফুটে থাকে। কাটা হাত, অথচ প্রাণবন্ত! হাত বার বার ফিরে আসে আকাশে ধূমকেতু হয়ে। সব ম এর মরা গাঙে তখন বাণ ডাকে। পত্রিকা ছেয়ে যায় শুধু ম এ। ধ এ ধূর্ত দের তখন রাতের ঘুম উড়ে যায়। তারা ফ্যাল ফ্যাল করে চেয়ে থাকে আর দশ থেকে এক অবধি গোনে মনে মনে!
দুই
নভেম্বরের সকালে খুঁজলে রাস্তায় গত কালী পুজোয় ফাটানো চকলেট বোমের খোল খুঁজে পাবে অনেক শিশিরে ভেজা। নভেম্বর বিপ্লব সম্বন্ধে জ্ঞান পাপী গুগুলের পাত্র পাত্রীর কলমের ছোট উইকি পাবে। রাস্তার মোড়ে সংশোধনবাদীদের বইয়ের স্টল পাবে। বুঝতে অসুবিধা হবেনা আজ… অসুবিধা হলেও কিচ্ছু করার নেই। এখন আমরা সাদাকে লাল দেখি আর লালকে বলি গোলাপী। সূক্ষ জিনিসগুলো চোখে পড়েনা। কোনো এক মিছিলে আমরা সামনে হাঁটতাম। এখন আমাদের সামনে হাঁটে তারা যাদের উপর আমাদের অগাধ বিশ্বাস। পকেটে শিল্পপতিদের ভিসিটিং কার্ড নিয়েও তারা সমান উৎসাহে নেতৃত্ব দেন! আর এখন তো সময়ের সাথে সাথে স্লোগানেও পরিবর্তন এসেছে, দুনিয়ার মজদুর দুই হও!
তিন
আম্বানি বাবু জানেন, আজ কিসের দিন। আজও তার কোটি কোটি কর্মচারী সারা বিশ্বে কাজ করবে অথবা কাজ তাদের করবে। সেই সব অফিসের কক্ষে অনেক আগেই তিনি লিখিয়ে দিয়েছেন “আগুন হইতে সাবধান!” না, আজ তিনি ভুলেও কোনো চাষীর ছেলের কথা ভাববেন না বরং আরো বেশী বেশী করে ভাববেন সেনসেক্স এর কথা। আজ তিনি কম খাবেন এবং রক্তে শর্করার মাথা ঠিক রাখতে সময় মতো ডায়াবেটিসের ওষুধটা নিয়ে নেবেন। না, আজ তিনি কোনো শিশুর কথা ভাববেন না। আজ তিনি ন্যাচারাল সিলেকশনে সব চেয়ে উৎকৃষ্ট মানুষ, আজ তিনি আত্মজীবনী লেখার কথা ভাববেন। খাবার পর যথারীতি দিবানিদ্রার ভেতর মাছ ধরতে বসবেন। রোজ তিনি বড়শিতে ফাঁসা যে বিশাল মাছটাকে টেনে তোলার চেষ্টা করছেন, তার ছিপ চেষ্টা করছে, মাছটার কতটা যন্ত্রনা হলে সে কত গতিতে ছটফট করে? মাছের শ্রেণী চরিত্র কি? তার শক্তির পরিমান কত? জলের মধ্যে সে কত শক্তি দিয়ে প্রতিরোধ করতে পারে এসবই আম্বানি বাবু জানেন ! জানেন তো?



