সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের অধিকারের দাবীতে ৮-৯ জানুয়ারির দুইদিন ব্যাপী ধর্মঘট কর্পোরেটরাজের বিরুদ্ধে নিঃসন্দেহে এক বড় আঘাত। কিন্তু এরই মাঝে একদিকে সি.আই.টি. ইউ-র সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তপন সেন, এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধর্মঘটের সমর্থন চেয়ে চিঠি দিয়েছেন আর অন্যদিকে, বিমান বাবু তৃণমূল বামেদের ধর্মঘট সমর্থন করলে ১৯-এর মমতার ব্রিগেডকেও সমর্থন করার কথা বামফ্রন্ট ভাববে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। ফলে এই ধর্মঘট আদৌ কতটা শ্রমিকস্বার্থে আর কতটা রাজনৈতিক বাণিজ্যের সমীকরণ সাজিয়ে নিতে ব্যবহৃত হচ্ছে তা জলের মত স্পষ্ট! এটা একটি শ্রমিক আন্দোলনের সাথে বঙ্গ বামেদের পলিট ব্যুরোক্র্যাটদের আবারও এক চরম বেইমানী বিশেষ করে যেখানে তৃণমূল ঘোষিতভাবে ধর্মঘটবিরোধী এবং শ্রমিকস্বার্থবিরোধী। এহেন একটি শ্রমিকস্বার্থবিরোধী, ক্ষমতাধর, পুঁজিবাদী, লুম্পেনদের দল যার ক্ষমতায় আসা থেকে আজ অবধি একের পর এক শ্রমিক – কৃষকবিরোধী সিদ্ধান্তে বাংলার শ্রমজীবিদের জীবনযাপন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে, শ্রমিকের লড়াইয়ে তার সমর্থন চেয়ে অর্থাৎ তাকে “মিত্র” ঘোষণা করে শ্রমিকদের এই সংগ্রামকে ভোঁতা করে তুলছে  সি.পি.আই(এম) নেতৃত্ব। তাছাড়া, অন্যবার ধর্মঘটের বিরোধিতায় তৃণমূল সরকারও যেখানে পুলিশ নামিয়ে মাইকিং করে, সেখানে এবারে সরকারি কর্মচারীদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করার কথা মিউমিউ করে ঘোষণা করেই তারা মালিক শ্রেণির পক্ষে তাদের দায় সারতে উদ্যত! ফলে বোঝাই যাচ্ছে, শ্রমিক-কৃষকদের আন্দোলনকে ব্যবহার করে কংগ্রেস তৃণমূলের ভোটের ঝোলাই ভরে দিতে চাইছে সি. পি.আই(এম)।  

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *