গত ১৩ই ফেব্রুয়ারী, ২০২০ পূর্ব ব্যাঙ্গালুরুর মুন্নিখোল্লা অঞ্চলে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলা থেকে কাজের সন্ধানে আগত পরিযায়ী শ্রমিকদের বস্তিতে ইয়েদ্দুরাপ্পা সরকারের মদতপুষ্ট স্থানীয় গুন্ডাদের একটি বড় দল আক্রমণ করে এবং প্রায় ২৫টা বাড়ি ভেঙে দেয়। একজন মহিলা গুন্ডাদের বাধা দিলে তার ৬ মাসের শিশুকে মাটিতে ফেলে দেয়। শিশুটির মাথায় চোট লেগেছে। পুলিশ কিছু গুন্ডাদেরকে গ্রেপ্তার করার নাটক করছে। স্থানীয়দের অনুমান বিজেপি নেতা অরবিন্দ লিম্বাবলির উস্কানিতেই এই ঘটনা ঘটেছে। প্রশ্ন করা হলে স্থানীয় লেবার ডিপার্টমেন্টের অফিসাররা এই ঘটনাকে জমির ইস্যু, লেবার ইস্যু নয় বলে দায় এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। 

মুন্নিখোল্লা বস্তি, ব্যাঙ্গালুরু

ইদানিং পূর্ব ব্যাঙ্গালোরের মুন্নিখোল্লা ছাড়াও কুন্দনাহাল্লি, ব্রুকফিল্ড, বেলান্দুর, কারিয়াম্মা অগ্রহর অঞ্চলে পশ্চিমবঙ্গ, অসম ও ত্রিপুরা থেকে কাজের খোঁজে আগত পরিযায়ী শ্রমিকদের ওপর এই ধরণের আক্রমণের ঘটনা বেড়েই চলেছে।

উল্লেখ্য, গত ১৯শে জানুয়ারি বেলান্দুর বস্তিতে পুলিশ নামিয়ে ‘ঘুসপেটিয়া’ তকমা দিয়ে উচ্ছেদ কার্য শুরু হয়। এই বস্তি হল পশ্চিমবঙ্গ, অসম, ত্রিপুরা, মণিপুর, বিহার ও উড়িষ্যার রুটিরুজির টানে ব্যাঙ্গালুরুতে আসতে বাধ্য হওয়া দরিদ্র পরিবারগুলির মাথা গোঁজার ঠাঁই। এখানে কেউ রাজমিস্ত্রি, কেউ ভ্যানচালক আবার কেউ গৃহকর্মীর কাজ করে। তাদের ভাষা, ধর্ম আলাদা হলেও কোনও বিভেদ নেই। কর্ণাটক হাইকোর্ট একমাসের মধ্যে বস্তি পুনর্নিমাণের আদেশ দিলেও তা এখনো বলবৎ হয়নি। 

একই সময়ে কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে চুপিসারে বস্তি উচ্ছেদ চলছে। বিধাননগর (মূলত সল্ট লেক), টালা, কালিঘাট এবং গড়িয়াহাট অঞ্চলে ভাঙার কাজ চলছে। নিজেদেরই বিলি করা বিকৃত তথ্য সম্বলিত ভোটার কার্ডকেই আজ অজু্হাত করে নিজেদের মিটিং মিছিলে ভীড় করানো এই হতদরিদ্র মানুষগুলোর জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে তৃণমূল। বিকল্প পুনর্বাসনের তোয়াক্কা না করে বাচ্চা-বৃদ্ধ সমেত সবাইকে গৃহহীন করার পরিকল্পনা করেছে মমতার ‘গরীববন্ধু সরকার’! 

সল্ট লেকের বস্তি, কোলকাতা

বিজেপি যে এনপিআর লাগু করার নামে এই উচ্ছেদ কার্যকে জাস্টিফাই করতে চাইছে, মমতা সেই এনপিআরের বিরোধিতার ভন্ডামি করে একই কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। মিডিয়া ও দুস্থ বিরোধীদের দ্বারা প্রচারিত এই রাজ্যে বিজেপি বিরোধিতার প্রধান মুখ মমতা। এটাই কি বিজেপি বিরোধিতার বৈশিষ্ট্য?


Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *