[সিএএ, এনআরসি, শ্রমিক বিরোধী শ্রম কোড বিল, রাষ্ট্রায়ত্ত্ব সংস্থার বেসরকারীকরণ এবং কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন জনবিরোধী নীতির প্রতিবাদে গত ২১শে ডিসেম্বর, কলকাতায়, মৌলালির রামলীলা ময়দান থেকে রানী রাসমণি এভিনিউ পর্যন্ত মিছিল করেন পিপল’স ব্রিগেড, সিপিআই(এমএল)-রেড ষ্টার, সিপিআই(এমএল), সিপিআই(এমএল)-নিউ ডেমোক্রাসি, এমকেপি, পিসিসি সিপিআই(এমএল) এবং পিআরসি সিপিআই(এমএল)। মিছিল শেষে একটি সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

সাতটি বাম সংগঠনের সদস্যরা কেন্দ্রীয় সরকারের জনবিরোধী নীতি এবং রাজ্য সরকারের ভাঁওতাবাজি সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন। রেড ষ্টারের পক্ষে কম: অলীক চক্রবর্তী তৃণমূল, কংগ্রেস এবং সিপিআই(এম)-এর এনআরসির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সত্ত্বেও আলাদা করে কেন সাতটি বাম সংগঠন এই প্রতিবাদ কর্মসূচি গ্রহণ করলো, তা তুলে ধরেন।

সিপিআই(এমএল)-এর পক্ষে বক্তব্য রাখেন কম: আলোক মুখার্জি, সিপিআই(এমএল)-নিউ ডেমোক্রাসি-র পক্ষে কম: সুজন চক্রবর্তী, মজদুর ক্রান্তি পরিষদের পক্ষে কম: অমিতাভ ভট্টাচার্য, পিসিসি সিপিআই(এমএল)-এর পক্ষে কম: শৈলেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য এবং পিআরসি সিপিআই(এমএল)-এর পক্ষে বক্তব্য রাখেন কম: কানাই বার্নওয়াল।

পিপল’স ব্রিগেডের পক্ষে বক্তব্য রাখেন কম: অরিত্র বসু। নিম্নোক্ত প্রবন্ধে তিনি সমাবেশে তাঁর বক্তব্যের মূল নির্যাসটুকু তুলে ধরেছেন। ]

সমাবেশে বক্তব্যরত কম: অরিত্র বসু

এদেশে চাষীরা ফসলের দামই পাননা, দাম নির্ধারণে তাঁদের কোনও ভূমিকাই দেয়না এই সত্তর বছরের গণতন্ত্র! মাঝখান থেকে বিপুল মুনাফার সিংহভাগটাই লুটে-পুটে খায় ফড়ে থেকে শুরু করে মহাজন আর শেয়ার মার্কেটের মহা খেলুড়েরা! আর আজকে দাঁড়িয়ে অর্থনৈতিক সঙ্কটের সাথে তাল মিলিয়ে সেই শোষণই পৌঁছেছে আরও চূড়ান্ত পর্যায়ে। এদেশে দীর্ঘকাল ধরেই প্রতি আধঘন্টায় একজন ক’রে কৃষকের আত্মহত্যা করার পরিসংখ্যান আমাদের চমকে দেয়।

সাম্প্রতীক সময়ে গাড়ি শিল্পের সর্বনাশ ঘটেছে, গত জুলাইয়ের মধ্যেই ২ লক্ষ ৩০ হাজার কর্মী এই সেক্টর থেকে ছাঁটাই হয়েছে। ‘গাড়ির পার্টস’-এর কারখানা থেকে এই সময়ে লে-অফ হয়েছে ১০ লাখ শ্রমিকের। ২০১৬-র ডিসেম্বর থেকে ২০১৮এর ডিসেম্বর— এই দুইবছরে গোটা দেশে এক কোটিরও বেশী মানুষ কাজ হারিয়েছেন, যার মধ্যে গ্রামে ৯১ লক্ষ ও শহরে ১৮ লক্ষ অসংগঠিত শ্রমিক আছেন। তথ্য বলছে, গত এক বছরে প্রতি মাসে ২৬% ক’রে কাজ হারিয়েছেন সাধারণ মানুষ, এবং বিজনেস স্ট্যাণ্ডার্ডের তথ্য বলছে, গত ৪৫ বছরে এই সময় বেকারত্ব পৌঁছেছে সর্বোচ্চ পর্যায়ে। গত সিকিশতকে কর্মরত মহিলার সংখ্যাও কমেছে ১০% এরও বেশী।

প্রত্যেকদিন আমরা কী দেখছি? পার্লেজির ব্যপক ছাঁটাই থেকে ভোদাফোনের এদেশে ব্যবসাই গুঁটিয়ে নেওয়ার উপক্রম, রেলের প্রাইভেটাইজেশনের পরিকল্পনা, বিএসএনএল-এ ব্যপক ছাঁটাই, ২৭ টা রাষ্টায়ত্ত্ব ব্যাঙ্কের একদিনে মার্জ ক’রে ১২ টা ব্যাঙ্কে পরিণত হওয়া, আমরা দেখেছি কিভাবে ৭৬ হাজার কোটি টাকার অনাদায়ী ঋণের হিসেব রিজার্ভ ব্যাঙ্ক মুছে ফেলেছে!

জনগণ ও গণতন্ত্র!!!

দেশ ও দুনিয়ার প্রথম সারির কোম্পানীগুলো, প্রতি দশ কোটি টাকা বিনিয়োগ পিছু দশজনেরও চাকরী দেয়না; আজ দেশের ৮৫% শতাংশ শ্রমিকই ক্যাসুয়াল, এমনকি সংগঠিত ক্ষেত্রেরও ৪৫% শ্রমিক-ও তাই! ভাবা যায়!?
না আছে এদের ঘর চালাবার মতো, পেট চালানোর মতো মজুরী, না আছে কাজের কোনও নিরাপত্তা। তথ্য বলছে, গত ৪০ বছরে গড়ে প্রতিবছর ৪০০ টি কারখানা লক-আউট হয়েছে!

সমাবেশে বক্তব্যরত কম: অলীক চক্রবর্তী

এই সবকিছুর মধ্যে দিয়ে আসলে একটা বিষয় স্পষ্ট হয়ে যায় যে, এই গভীর অর্থনৈতিক সঙ্কট থেকে পরিত্রাণের কোনও পথ অন্তত টাটা-বিড়লা আম্বানী-আদানীর পা চাটা এই কেন্দ্র সরকার, বিজেপি দল আর তাদের নেতা-মন্ত্রী-আমলা-এক্সপার্টদের কাছে নেই। এমনটা নয়, যে সত্তর বছরের ভারতরাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক পরিকাঠামো এদেশের জনগণকে বিপুল কিছু দিয়েছে, বিশাল ভালো রেখেছে। কিন্তু এমনকি এই গণতন্ত্রে, বা আমাদের দেশের সংবিধানেও অন্তত যেটুকু ন্যূনতম অধিকার দেশের মানুষের জন্য রাখা হয়েছে, আজকের দেশজোড়া সঙ্কটের সময়, এই ব্যবস্থা আমাকে-আপনাকে, দেশের কোটি কোটি মেহনতী জনতাকে সেটুকুও দিতে প্রস্তুত নয়। বিপুল সংখ্যক মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ইত্যাদির একদম বেসিক অধিকারের যেটুকুও এর আগে এই সংবিধান এই ব্যবস্থায় দিতে পারতো, আজকের অর্থনৈতিক সঙ্কট সেই জায়গাতেও নেই। জনগণকে শুষে নিয়ে মুনাফার পাহাড় গড়া এই ব্যবস্থা এক অদ্ভুত ট্র‍্যাপে ফেঁসে আছে। আজকে দাঁড়িয়ে এই বিশাল বড়ো মেহনতী জনতার ভাণ্ডার, অর্থনীতির ভাষায় ‘হিউমান রিসোর্স’, তা এই কর্পোরেটী-রাষ্ট্র ও আজকের বিজেপি সরকারের জন্য একটা বোঝা বৈ কিচ্ছু না। জনগণ তার কাছে অপ্রয়োজনীয় ইনভেন্টরি মাত্র! সুতরাং, একটা বিশাল অংশের মানুষকে ছেঁটে ফেলা, আজকে এই ভারত-রাষ্ট্রের কাছে, বিজেপি সরকারের কাছে, একটা ভীষণ জরুরী কাজ। একটা বিশাল অংশকে ছিন্নমূল করা ছাড়া তার হাতে আর উপায় নেই। আর সেজন্যই ব্যপক রাজনৈতিক পরিকল্পনাকে সাথে এনেই, এক বিশাল অংশের জনসমষ্টিকে দেশের মানচিত্রের বাইরে ছুঁড়ে ফেলতে চাইছে এই সরকার, তার জন্যই এন আর সি, তার জন্যই সি এ এ।

এন আর সি’র নামে কী বলা হচ্ছে। বলা হচ্ছে যে, সরকার নিজে ঠিক করে দেবে যে, এমন কোন ডকুমেন্ট লাগবে, যার ভিত্তিতে ঠিক হবে, কোনও ব্যক্তি নাগরিক না কি নন!
এবং এই ডকুমেন্টগুলো কী কী?

সরকার বলছে, ভোটার-আধার-প্যান এমন কোনও কিছুকেই এন আর সি’র খাতায় নাম তোলার প্যারামিটার হিসেবে না-ও রাখা হতে পারে। অর্থাৎ, আপনার ভোটার আইডি আছে, আপনি ভোট দিলেন, সেই ভোটের ভিত্তিতে সরকারও গড়া হলো। এবার সরকার বলছে, আপনার নাকি নাগরিকত্ব নেই। আপনার সিটিজেনশিপ যদি অবৈধ হয়, তবে আপনারই ভোটের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা এই সরকারও বে-আইনি! আর বে-আইনি সরকারের অধিকার আছে নাকি আইন লাগু করার? কার নাগরিকত্ব থাকবে, আর কার না, তা ঠিক করতে উদ্যত এই স্বঘোষিত ধম্মগুরুদেরই সবার আগে আরব সাগরের জলে ছুঁড়ে দিন!
আসলে সরকারের পরিকল্পনাটা কী? আর এই ঘৃণ্য খেলার সবচাইতে শেয়ানা খেলুড়ে হিসেবে বিজেপিই কেনো এগিয়ে আসছে! এর কারণটা স্পষ্ট হবে যদি আমরা এন আর সি আর ক্যাব দুটোর দিকে তাকাই।

ক্যাব বা ক্যা তে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশ, পাকিস্তান আর আফগানিস্তান থেকে আসা অ-মুসলিম মানুষদের এদেশে থাকতে দেওয়া হবে।

এন আর সি দিয়ে একদিকে যখন একটা বিপুল সংখ্যক মানুষকে দেশহীন, নাগরিকত্বহীন ক’রে, তাদের বেঁচে থাকার মিনিমাম অধিকারটুকুও কেড়ে নেওয়া হবে, তখনই আবার ক্যাব দিয়ে তাঁদের মধ্যে অ-মুসলিম অংশটাকে পুণরায় শরণার্থী হিসেবে, এদেশে থাকার অধিকার দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। এর মানেটা কী?

একদিকে এটা সরাসরি দেশের অগণিত কয়েক কোটি মুসলমান জনতার উপর ব্যপক শোষণ নামিয়ে আনার ঘৃণ্য প্ল্যান, আর অন্যদিকে, যে সমস্ত অ-মুসলিম জনগণ এ্যদ্দিন এদেশেই ছিলেন, নাগরিক হিসেবেই ছিলেন, তাঁদের নাগরিকত্ব কেড়ে পরিনত করা হবে শরণার্থীতে। এটা একদিকে গোটা দেশে হিন্দু-মুসলমান পোলারাইজেশনকে আরও দৃঢ় করবে, অন্যদিকে প্ল্যানফুলি বিপুল সংখ্যক অ-মুসলিম জনতাকেও দেশের নাগরিকে নয়, শরণার্থীতে, আশ্রয়-প্রার্থীতে, পরিণত করবে। এই যে ক্যাব, তা আমাদের দেশের সংবিধানেরই পরিপন্থী। আমাদের দেশ ঘোষিত সেকুলার দেশ, তাই এই দেশে নাগরিকত্বের প্রশ্নে কোনোও প্রকার ধর্মীয় বিভাজন আসলে দেশের সংবিধানের বুকেই ছুরি বসানো। এদেশ যতটা রামের, ততটাই রহিমের। আসলে এই যে বিপুল অর্থনৈতিক সঙ্কটের বোঝা, যার মধ্যে দিয়ে গণ-বিতাড়ণের মতো নোংরা কাজে মেতেছে বিজেপি আরএসএস, তাকেই সাম্প্রদায়িকতা আর জাত-ধর্মের রূপ দিয়ে মানুষের মনকে পেটের খিদে থেকে ধর্মীয় উন্মাদনার দিকে ঘোরাতে চাইছে এই সরকার। এই সময়ে একের পর এক দাঙ্গা বাঁধিয়ে এক ভয়ানক অস্থিরতা তৈরী করে নিজেদের আখের গোছাতে চাইছে বর্বর আরএসএস আর তারই ধামাধরা মোদী-শাহ, বিজেপি!

এই ভয়ানক পরিস্থিতিতে ঘোলাজলে মাছ ধরতে নেমেছেন আমাদের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর দল তৃণমূল। কিন্তু কি জানেন তো, ধর্মের কল বাতাসে নড়ে। জনগণকে প্রতারণা করার এই যে নোংরা খেলা, যা একদা বিজেপি সরকারের রেলমন্ত্রী, এককালে আরএসএসকে দেশভক্ত ব’লে স্টেটমেন্ট দেওয়া এই মমতা ব্যানার্জী, বিজেপির সাথে তালে তাল মিলিয়েই করে এসেছেন, তারও হাঁড়ি কিন্তু ভরা হাটেই ভাঙতে বসেছে।
২০০৫ সালে পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে বে-আইনি অনুপ্রবেশকারীর ধুয়ো তুলে এই সততার প্রতীক সারদার প্রতীক মমতা ব্যানার্জীই স্পিকারের মুখে কাগজ ছুঁড়ে মেরেছিলেন। বাংলাদেশ থেকে অনেক লোক বে-আইনি ভাবে এদেশে ঢুকে ভোটার হয়ে যাচ্ছে, এইধরণের অভিযোগ তিনিই তুলেছিলেন, আজকে অমিত শাহ যাদেরকে ‘ঘুসপেটিয়া’ বলে চিহ্নিত করে তাড়ানোর লাইন নিয়েছেন। সেই কথা কেউ ভোলেনি। আজকে দাঁড়িয়ে যখন একের পর এক জনবিরোধী গণহত্যাকারী ঘৃণ্য বর্বর বিলগুলো পাশ হয়ে যাচ্ছে, তা সে সংরক্ষণ বিল হোক, কাশ্মীর থেকে ৩৭০ প্রত্যাহার হোক বা ক্যাব হোক, একটু ভেবে দেখুন বন্ধুরা, এই বিলগুলো পাশ হচ্ছে কী করে? এটা একটা ফ্যাক্ট যে, লোকসভায় বিজেপির একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে, এবং সেজন্যই, লোকসভায় কোনও বিল পাশ করানো বিজেপির পক্ষে অসম্ভব নয়! কিন্তু রাজ্যসভা? রাজ্যসভায় বিজেপির আসন ৮৩, যেখানে সেখানকার মোট আসন ২৪৫! তাহলে রাজ্যসভায় বিল পাশ হচ্ছে কী করে? প্রতিক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, এই যে বিজেপি-বিরোধী দক্ষিণপন্থী দলগুলো, অর্থাৎ কংগ্রেস বা তৃণমূল কংগ্রেসের মত দলগুলো, অর্থাৎ আঞ্চলিক যে বুর্জোয়া দলগুলো, এরা হয় রাজ্য সভাতে বিজেপির আনা প্রস্তাবকে সমর্থন করছে, বা ভোটই দিচ্ছেনা। আমাদের রাজ্যে দিদিভাইয়ের দলও তাই-ই করেছে। উচ্চ বর্ণের সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিল রাজ্যসভায় ওঠার আগের দিন অব্দি তারা বলেছিলো এর বিরোধীতা করবে; অথচ, পরের দিন গিয়ে ভোট দিয়ে এসেছে। ৩৭০ ধারা বাতিল সংক্রান্ত বিল রাজ্যসভায় পাস হওয়ার আগে অব্দি তা নিয়ে শোরগোল তুলে, বাজার গরম করে ফুটেজ খেয়ে, এই মমতা ব্যানার্জীর সাংসদরাই ভোট না দিয়ে ওয়াক আউট করে!

মানে অতি-সন্তর্পণে বিলের মান্যতার পথ প্রসস্ত করে! বিরোধীতাও হলো, আবার বিজেপির সুবিধাও করে দেওয়া হলো। একই ঘটনা ঘটেছে সিএএ নিয়েও! লোকসভায় তৃণমূলের অধিকাংশ সাংসদ তো উপস্থিতই ছিলেন না, রাজ্যসভাতেও তাঁরা ও অন্যান্য বিজেপি-বিরোধী দক্ষিণপন্থীরা যে আসলে তলায় তলায় বিজেপির সুবিধা করার কাজই করেছেন, তা রাজ্যসভায় এই বিলের মান্যতা পাওয়াই প্রমাণ করে।

অন্যদিকে বামপন্থীদের মধ্যে সিপিআই(এম)-সিপিআই, এরা কিন্তু আসাম ও ত্রিপুরায় এনআরসি-র পক্ষ নিয়েছে, যা আসলে জাতিগত বৈরীতা ও বিদ্বেষেরই রাজনৈতিক নামান্তর। মাথায় রাখতে হবে, ২০১২ সালে সিপিআই(এম)-এর সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ কারাতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকে লেখা চিঠি, যেখানে তিনি এরাজ্যে বাংলাদেশ থেকে ধর্মীয় নিপীড়নের কারণে এরাজ্যে চলে আসা মতুয়া বা নিম্নবর্গীয় হিন্দুদের নাগরিকত্ব প্রদানের অনুরোধ করেছিলেন, আর চেপে গেছিলেন একটা দরিদ্র অর্থনীতির মধ্যে পিষে মরা লক্ষ-লক্ষ সাধারণ মানুষের তুলনামূলক শক্তিশালী অর্থনীতির দেশে এসে জীবন-জীবিকা নির্বাহের মূল অর্থনৈতিক প্রশ্নকে, যাঁদের একটা সিগনিফিক্যান্ট অংশই মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষ!

সবমিলিয়ে আজকে দাঁড়িয়ে এই যে ভয়াবহ রাজনৈতিক পরিস্থিতি, এই যে গণহত্যা, গণ-উচ্ছেদ বা গণবিতাড়নের মতো ভয়ানক পরিস্থিতি তৈরী করছে বিজেপি-আরএসএস বা মোদী-শাহরা, তারই সাথে তালে তাল মিলিয়ে অন্যান্য তথাকথিত বিজেপি-বিরোধী দক্ষিণপন্থীরা গোটা দেশ জুড়ে বিজেপি বনাম অ-বিজেপি বা হিন্দু বনাম মুসলমানের মতো ঘৃণ্য পোলারাইজেশনের জন্ম দিচ্ছে। মুছে দেওয়া হচ্ছে পেটের প্রশ্নকে, কাজের প্রশ্নকে, শিক্ষা-স্বাস্থ্যের প্রশ্নকে! কেননা এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর এই সিস্টেমের কাছে নেই। তাই সিস্টেমেরই লেজুড় যেসব রাজনৈতিক দলগুলো, তারা এসব থেকে মোড় ঘোরাতে চাইছে আম-জনতার। বামপন্থী শক্তিগুলোর একাংশ আজকে দাঁড়িয়ে এই কাজেরই শরিক হয়ে পড়েছে।

এই রাজনীতিকে ধ্বংস করতে গেলে, সবার আগে দরকার জনগণের এজেন্ডায় নতুন আন্দোলন, যা সরকারের টুঁটি চেপে ধরতে পারে। আজ এই সাতটি বামপন্থী দল এই মঞ্চ থেকে এমনই এক গণ-আন্দোলনের ডাক দিচ্ছে, যা জনগণের রুটি-রুজি-শিক্ষা-স্বাস্থ্যের প্রশ্নকে, বেকারত্বের প্রশ্নকে টেনে তুলে আনবে, এবং নাস্তানাবুদ হয়ে যাওয়া এই সিস্টেম যতক্ষণ না অব্দি ভাঙছে, ততক্ষণ অব্দি আওয়াজ দেবে: ‘এক ধাক্কা অউর দো’!

ইনকিলাব জিন্দাবাদ।
সাতটি বাম সংগঠনের ঐক্য জিন্দাবাদ।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *