বাজারি মিডিয়া হোক বা অন্যান্য গণমাধ্যম, এখন একটাই পরিকল্পিত আর্তনাদ, ‘যুদ্ধ চাই! যুদ্ধ চাই!’ বর্তমানে ভারতের সব সমস্যার একমাত্র কারণ পাকিস্তান। যদিও পাকিস্তানের সাথে ভারতের কৃষক হত্যা বা শ্রমিক ছাঁটাইয়ের মত ঘটনার সম্পর্ক কোথায় তা জানেনা সাধারণ  জনগণ।

অন্যদিকে, মানুষের পক্ষ নিয়ে কথা বলে যুদ্ধের বিরোধিতা করলেই আপনি দেশদ্রোহী, তা আপনার পরিচয় যাই হোক না কেন। ১৪ই ফেব্রুয়ারী, ২০১৯-এর ঘটে যাওয়া সন্ত্রাসবাদী আক্রমণে মৃত সৈনিক বাবলু সাঁতরার স্ত্রী শান্তির দাবীতে এবং মানবতার পক্ষ নিয়ে যখন যুদ্ধর বিরোধিতা করেন, তখন রেপ থ্রেট বা অবৈধ সম্পর্কের গল্প বাজারে ছড়িয়ে দেয় সোশ্যাল মিডিয়ার যুদ্ধ প্রেমী জনগণ। যখন পাকিস্তান ভারতের উইং কমান্ডার অভিনন্দনকে অক্ষতভাবে ফিরিয়ে দিয়ে শান্তি স্থাপনের উদ্দেশ্যে এক ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে ঠিক তখনই ভারতে আসন্ন নির্বাচন কেন্দ্রিক এহেন যুদ্ধন্মাদনা আদতেই আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ভারতের সম্মানকে ভূলুণ্ঠিত করছে মোদী সরকার। 

ভারতের জনজীবনে শেষ কয়েক বছরে কর্পোরেটদের সীমাহীন শোষনের ফলে ও অপদার্থ সরকারি নীতির কারণে ভুয়ো উন্নয়নের গল্প আজ আর বাজারে চলছেনা। ২০১৯ এর স্ট্যাটিস্টিক্স অনুযায়ী বর্তমানে বেকারত্বের হার শেষ ৩০ বছরে সব থেকে বেশি এবং শেষ ১৪ বছরে কৃষকের আয় সব থেকে কম। এই মুহূর্তে এই অপদার্থতাকে ঢেকে দেওয়ার একমাত্র রাস্তা যুদ্ধ জিগির এবং ধর্মীয় উন্মাদনা। কিন্তু সেই চক্রান্তে জল ঢেলে পাকিস্তানের পাঞ্জাবের কালচারাল মন্ত্রীকে হিন্দু বিরোধী সাম্প্রদায়িক বক্তব্যের জন্যে অপসারণ করা হয়েছে। ফলে ভারত ও পাকিস্তানের যুদ্ধের আড়ালে হিন্দুত্ববাদের পালে হাওয়া দেওয়ার পরিকল্পনায় জল ঢেলে দিয়েছে পাকিস্তান।

যদিও আশ্চর্য ভাবেই  কোনো বিরোধী দলের তরফ থেকে যুদ্ধের বিরোধিতা করতে দেখা যায়নি। উল্টে তারা প্রমান চেয়েছে কতজন পাকিস্তানিকে খুন করা হয়েছে। একদিকে বিজেপি, উল্টোদিকে এ হেন বিরোধী জোট — জনগণের অবস্থা যেন “হেড ইউ উইন, টেল আই লস্‌”! ‘ 

 

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *