২০১৪ সালের লোকসভা ভোটে বিজেপি-র অন্যতম এজেন্ডা ছিল কালো টাকা উদ্ধার। একদিকে প্রত্যেক জনগণকে ক্ষমতায় এলে ১৫ লাখ টাকা করে দেওয়ার ঘোষণা আর অন্যদিকে প্রত্যেক বছর ২ কোটি চাকরির প্রতিশ্রুতিতে ভর করে ৩১% ভোট নিয়ে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসলেও ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের প্রাক্কালে এই অপদার্থ সরকারের ব্যর্থতা আজ সবার সামনে চলে এসেছে। ফলে এয়ার স্ট্রাইক থেকে শুরু করে রামমন্দিরের মতো ইস্যুকে পাথেয় করে লোকসভা ভোটে জিততে চাইছে বিজেপি। কিন্তু এই উগ্র জাতীয়তাবাদ হোক বা উগ্র হিন্দুত্ববাদ, কোনো জিগিরই ঢাকতে পারছেনা সরকারের ব্যর্থতার খতিয়ানকে।

২০১৬ সালের বহুচর্চিত নোটবন্দী আদতেই যে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সম্মতিতে হয়নি তা একটি সাম্প্রতিক আরটিআই থেকে স্পষ্ট হয়ে গেছে। উক্ত বছরের রিজার্ভ ব্যাঙ্কের স্ট্যাটিস্টিক্স দেখলেই বোঝা যায় নোটবন্দী হওয়া টাকা আসলে জমা হয়েছিল ‘মার্কেট স্টেবিলাইজেশান স্কিম’-এর খাতে, যদিও এই স্কিমের সাথে কালোটাকার কোনও সম্পর্ক নেই, বরং সম্পর্ক রয়েছে ফাটকা কারবার উদ্ভূত অর্থনৈতিক সংকটের সঙ্গে। আর এত কিছুর পরেও যে সরকারের প্রধানমন্ত্রী নিজেকে জনগণের চৌকিদার বলতে ব্যস্ত, সেই প্রধানমন্ত্রী এখনো নাকি “ছোটা মোদী”-কে খুঁজে পাচ্ছেনা!

বর্তমানে ব্রিটেন সরকার ‘পারস্পরিক সম্পর্ক চুক্তি’ অনুযায়ী নীরব মোদীর আর্থিক দুর্নীতি সম্পর্কে ভারত সরকারের কাছে তথ্য চাইলেও সরকার এই বিষয়ে সম্পূর্ণ উদাসীন। ভোটের আগে এই উদাসীনতার একমাত্র কারণ আদতেই যে কর্পোরেট ফান্ড তা আজকে দাঁড়িয়ে প্রথম শ্রেণীর শিশুর কাছেও “জলবৎ তরলং”। শেষ চার বছরে নরেন্দ্র মোদী সরকারের জমানায় শুধু কর্পোরেট ঋণ মুকুবের পরিমান প্রায় ২.৪ লক্ষ কোটি টাকা এবং এই বোঝা বারবারই নেমে এসেছে সাধারণ জনগণের উপর। এই অপদার্থ সরকারী নীতির ফলে বিজেপির স্পন্সরকূল আদানি,আম্বানি, গোয়েঙ্কা, মালিয়া, নীরব মোদীরা ফুলে ফেঁপে উঠলেও ধুঁকছে পাবলিক সেক্টর ব্যাঙ্কগুলো। ভারতে এই মুহূর্তে প্রথম সারির ৩৮টি ব্যাঙ্কের এনপিএ-র পরিমান সংকট সীমার কাছাকাছি এবং এই ব্যাঙ্কগুলির মধ্যে প্রথম ৫টি অর্থাৎ এসবিআই, পিএনবি, বিওআই, আইডিবিআই এবং বিওবি-র অবস্থা সবচেয়ে সংকটজনক।

তার ভারতীয় কম্পানিগুলির ভুয়ো নথিপত্র দেখিয়ে হীরে ব্যবসায়ী নীরব মোদী বারংবার পিএনবি থেকে টাকা লোপাট করে তার বিদেশি রপ্তানিকারী সহযোগীদের কাছে পাঠিয়ে দিতে থাকে। আসলে এই রপ্তানিকারী সহযোগীরা হল নীরবের নিজস্ব কম্পানি। লুট করা এই টাকা এইভাবে সে কাজে লাগাতে থাকে তার দেনা মেটানোর জন্য। ১৩ হাজার কোটি টাকার এই জালিয়াতি ধরা পড়ে গেলে সে বিদেশে চম্পট দেওয়ার আগে প্রায় ৯৩৪ কোটি টাকা তার বিদেশে অবস্থিত বিভিন্ন ভুয়ো কম্পানি মারফৎ পরিবারের সদস্যদের ব্যাঙ্ক আকাউন্টে ঢুকিয়ে দেয়! তবুও মুখে কুলুপ এঁটে রয়েছে ভারত সরকার!

এর ফলে আমাদের দেশের পাবলিক সেক্টর ব্যাঙ্কগুলি এই মুহূর্তে আইসিইউ-তে থাকলেও ১০ লাখ টাকার জ্যাকেট পরে লন্ডনের রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো ফুরফুরে মেজাজে থাকা জালিয়াত নীরব মোদী বিদেশি মিডিয়ার সামনে ‘নো কমেন্টস্‌’ বলে বুঝিয়ে দেয় – যখন বড় মোদী আছে সাথে, কোটি কোটি টাকার ঋণখেলাপিদের ভয় নেই ভারতে !

 

Photo Courtesy: businesstoday.com 

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *