১। ষণ্মুঘম শেট্টি (১৯৪৭-৪৯)

—– কেন্দ্রীয় ইনকাম ট্যাক্স কমিশন বসালে এই বসন্ত মিলের মালিক কইম্বত্তুরের কিছু মিল মালিকদের প্রতি পক্ষপাত দুষ্ট হয়ে কোটি কোটি টাকার বকেয়া ট্যাক্স ছাড় দিয়ে দেন। জানাজানি হলে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পদত্যাগ।

২। জন মাথাই (১৯৪৯-৫০)

—– বেসরকারি সংস্থাগুলির কাঁচামালের উপর সরকারি ভর্তুকি প্রদান।

—– সরকারি সিদ্ধান্তে পি সি মহালানবিশ এবং প্ল্যানিং কমিশনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের প্রতিবাদে পদত্যাগ।

৩। চিন্তামন দেশমুখ (১৯৫০-৫৭)

—– রেলের ভাড়া বৃদ্ধি।

—– কর-ব্যবস্থার সংস্কারঃ সাধারণ মানুষের উপর বিভিন্ন উপায়ে পরোক্ষ কর বৃদ্ধি। আয়করের তুলনায় পরোক্ষ কর বাড়ানোর প্রবণতা।

—– কর্পোরেশান ট্যাক্স ব্যতীত বাকি যে সমস্ত আয়করের উপর প্রদেশগুলির অধিকার স্বীকৃত তা প্রদানের ক্ষেত্রে বিভাজনের রাজনীতির অভিযোগ।

—– ১৯৫১ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটে মোট ৭৩৫ কোটি টাকার মধ্যে পুলিশ ও মিলিটারিতে বরাদ্দ ৩১০ কোটি টাকা এবং সামাজিক ক্ষেত্রে মাত্র ১৫০ কোটি টাকা!

৪। টি টি কৃষ্ণামাচারী (১৯৫৭-৫৮; ১৯৬৩-৬৫)  

—– শেয়ার বাজারকে চাঙ্গা করার নামে রাষ্ট্রায়ত্ত এল আই সি-র শিল্পপতি হরিদাস মুন্ধ্রার কানপুরের নকল ফার্মে ১ কোটি ২৬ লক্ষ টাকার বিনিয়োগ এবং কর ফাঁকি অগ্রাহ্যের ঘটনায় পদত্যাগ।

৫। জহরলাল নেহেরু (১৯৫৮)

—– সরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে বেসরকারি ভারী শিল্পের গোড়াপত্তন।

—– বড় ব্যবসায়ীদের স্বার্থে আমদানি নিয়ন্ত্রণ।

—– ভূমি সংস্কারে অনীহা; ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারের সৃষ্টির হলেও জোতদার-জমিদারদের একাধিপত্য (আধা সামন্ততান্ত্রিক আধা পুঁজিবাদী অর্থনীতির ভিত্তি)।

—– কৃষি ঋণ ও সেচের দুর্বল পরিকাঠামো।

—– রেশনের পরিমাণ হ্রাসের ফলে ব্যাপক চোরাকারবার!

—– মার্কিন চার্টারকে মান্যতা দিয়ে এবং জোট নিরপেক্ষতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সোভিয়েত ও চীনের থেকে অনেক কম খরচে আমদানির সুযোগ প্রত্যাখ্যান; আমদানির ক্ষেত্রে মার্কিন প্রীতি।

৬। মোরারজি দেশাই (১৯৫৮-৬৩; ১৯৬৭-৬৯)

—– গোল্ড কন্ট্রোল অ্যাক্ট-এর প্রণেতা; এই কুখ্যাত আইন পাশ করা হয় ছোট  ব্যবসায়ীদের কোমর ভেঙে দিতে। প্রথমে, গোল্ড লোন, পরে ১৪ ক্যারাটের ঊর্ধের স্বচ্ছতার সোনা বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা জারী করা হয়। ১৯৬৮ সালে স্যাকরাদের অনধিক ১০০ গ্রাম এবং লাইসেন্স প্রাপ্ত ব্যবসায়ীদের কর্মচারীর সংখ্যার নিরিখে সোনা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়; সোনা ব্যবসায়ীদের মধ্যে সোনা আদান-প্রদান বন্ধ।

—– ফলাফলঃ ব্যাপক কালো বাজারী, সোনা পাচার, হাওয়ালা দুর্নীতির ভিত্তি স্থাপন, ড্রাগ স্মাগলিং…

—– ‘ফোরেন কোলাবোরেশান ডিলস্‌’-এর মধ্যে দিয়ে দেশীয় একচেটিয়াদের সঙ্গে বিদেশীদের জোট গঠন।

—– ব্যাঙ্ক রাষ্ট্রায়ত্তকরণঃ উদ্দেশ্যঃ অর্থনৈতিক সংকটের সময়ে শহর ও গ্রামের ব্যবসায়ীদের ঋণ দেওয়া এবং গ্রামীণ পুঁজির কেন্দ্রীভবন (অর্থমন্ত্রীকে না জানিয়েই প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সিদ্ধান্ত)।

৭। শচীন্দ্র চৌধুরী (১৯৬৫-৬৭)

—– লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর আমলে অর্থনৈতিক মন্দা; মুদ্রাস্ফীতির হার ৭.৭%।

—– ইন্দিরা গান্ধির আমলে ডানপন্থী অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রচেষ্টা।

—– ব্যাপক শ্রমিক ছাঁটাই; বস্ত্র শিল্পে সংকট; তেল, ওষুধ, কৃষিজাত সামগ্রীর দামের অতিরিক্ত ওঠানামা।

—– ১৯৬৬ সালে আই এম এফ-এর নির্দেশে টাকার দাম কমানোর ফলে ব্যাপক মুদ্রাস্ফীতি। ডলারের দাম ৪.৭৫ টাকা থেকে ৭.৫০ টাকায় বেড়ে দাঁড়ায়।

৮। ইন্দিরা গান্ধী (১৯৭০-৭১)

—– ১৯৭০ সালে সবুজ বিপ্লবের ডাকঃ কৃষিক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নতমানের বীজ ও ভূমি সংস্কারের বদলে বিদেশী কোম্পানি প্রদত্ত কৃত্রিম বীজ ও সারের প্রবর্তন; ফলাফলঃ ১৯৫০-৬৬-এর ২.৬%-এর তুলনায় ১৯৬৬-৮০ সালে কৃষি উৎপাদনে বার্ষিক আয় বৃদ্ধি মাত্র ৩%।

—– কৃষক ফসলের ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত; বেকারের সংখ্যা ৫০ লক্ষ।

৯। যশবন্ত রাও চহ্বাণ (১৯৭১-৭৫)

—– দেশে দ্বিতীয়বার অর্থনৈতিক মন্দা; ১৯৭২ সালে ০.৫৫% জি ডি পি হ্রাস।

—– ব্রেটন-উড ব্যবস্থার পতন ও ১৯৭৩ সালের ‘অয়েল শক’-এর ফলে ১৯৭৩-৭৪ সালে মুদ্রাস্ফীতির হার ২০% ছুঁলেও সরকারের পরমাণু পরীক্ষায় সায়!

১০। চিদাম্বরম সুব্রহ্মণ্যম (১৯৭৫-৭৭)

—– ২০ দফা কর্মসূচীর ভিত্তিতে ইন্দিরা গান্ধির একনায়কতান্ত্রিক যুগ।

—– জাহাঙ্গীর টাটা, ধীরুভাই আম্বানীর মত বড় পুঁজিপতিদের অবাধ বিচরণ।

১১। হিরুভাই প্যাটেল (১৯৭৭-৭৯)

—– পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার বদলে রোলিং প্ল্যানের সূচনা এবং দেশজুড়ে অর্থনৈতিক অস্থিরতা।

—– ভূতলিঙ্গম কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী মজুরী কমিয়ে কর্মসংস্থান বাড়ানোর আজগুবি তত্ত্ব (এই নীতির ফলেই ১৯৩০-এর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ‘গ্রেট ডিপ্রেশন’!)।

১২। চৌধুরী চরণ সিং (১৯৭৯)

—– পুঁজিপতিদের ২০০ কোটি টাকা কর মুকুব।

—– ভোগ্য পণ্যের উপর ৫০০ কোটি টাকার কর প্রণয়ন।

—– বড় চাষিদের জমির মালিকানা অক্ষত।

১৩। হেমবতী নন্দন বহুগুণা (১৯৭৯-৮০)

—– দেশের মুদ্রাস্ফীতি ১৮.২%।

১৪। ভেঙ্কটরামন (১৯৮০-৮২)

—– ৫০০০ কোটি টাকার লালসায় বিশ্ব ব্যাঙ্কের দাবী মেনে খাদ্যের উপর ভর্তুকি রদ। শহরগুলির রাজপথে ভুখ মিছিল।

—– মুদ্রাস্ফীতি ১১-১৩%; বৈদেশিক সাহায্য ২৩৪০ কোটি টাকা; ঋণ শোধ বাবদ ব্যয় রপ্তানির ২৭%।

১৫। প্রণব মুখার্জী (১৯৮২-৮৪; ২০০৯-১২)

—– ‘অপারেশান ফরওয়ার্ড’-এর নামে বাজারের উদারীকরণ।

—– কর্পোরেট গোষ্ঠীর কর মুকুব; পেট্রো পণ্য, বিদ্যুৎ শুল্ক, বাস ও রেলের ভাড়া বৃদ্ধি; বেকারের সংখ্যা ২ কোটি ২১ লক্ষ। 

—– সরকারি মিতব্যায়িতা; ‘বিদেশী মুদ্রা বিনিময় নিয়ন্ত্রণ আইন’ এবং ‘একচেটিয়া ও সংকোচনমূলক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ আইন’-এ পরিবর্তন এনে একচেটিয়াদের তোষামোদ।

—– মনমোহন সিংহের প্রধানমন্ত্রীত্বকালে ফ্রিঞ্জ বেনেফিটস্‌ (মজুরী ছাড়াও কর্মচারীর বাড়তি আয়) ট্যাক্স বাতিল। ২০১২ সালে রেট্রোস্পেক্টিভ ট্যাক্স প্রণয়ন।

১৬। ভি পি সিং (১৯৮৪-৮৭)

—– দেশের ৮০,১১০ শিল্প প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭৪০৯টি মাত্র টিকে; ব্যাপক বেকারত্ব।

—– বস্ত্রশিল্পের সংকটঃ মাথা পিছু কাপড়ের ব্যবহার ১৩.৮ মিটার থেকে ১০.৮ মিটারে! (ব্রিটিশ আমলের থেকেও কম) 

১৭। রাজীব গান্ধী (১৯৮৭)

—– দেশের অর্থনীতির উদারীকরণ; কর্পোরেট সংস্থাগুলিকে সরকারি অনুদান; জাতীয় যোজনার ৩০ লক্ষ ৫০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের ৫৩% বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য ধার্য।

—– ‘লাইসেন্স রাজ’ কমিয়ে দেওয়া হয়; রাষ্ট্রায়ত্ত ক্ষেত্রগুলিকে পঙ্গু করে দেওয়া হয়; কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি শিল্পে আমদানি শুল্ক কমিয়ে দেওয়া হয়।

—– টাকার গড়পড়তা কার্যকরী বিনিয়োগ হার ১২% কমে যাওয়ায় দেশের ৭০% মানুষ দারিদ্রসীমার নীচে।

—– বফোর্স দুর্নীতি ফাঁস।

১৮। এন ডি তিওয়ারি (১৯৮৭-৮৮)

—– খরার ফলে খাদ্যশস্যের সূচক বিপজ্জনকভাবে কম।

১৯। শঙ্কর রাও চহ্বাণ (১৯৮৮-৮৯)

—– বিদেশী ঋণের বোঝা ৬৩০ কোটি ডলার; ঋণ শোধের অনুপাত রপ্তানির ২৪%।

২০। মধু দন্তবাদে (১৯৮৯-৯০)

—– সোনার উপর ধার্য কর কমিয়ে দেওয়া হয়।

—– ‘লাইসেন্স রাজ’ অর্থাৎ বেসরকারি সংস্থা পত্তনের সময়ে সরকারি লাইসেন্স প্রাপ্তির আবশ্যিকতা ভোঁতা করে দেওয়া হয়।

২১। যশবন্ত সিনহা (১৯৯০-৯১; ১৯৯৮-২০০২)

—– অর্থনৈতিক সংকট; আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার দরুণ টাকার দাম কমতে থাকে।

—– মুদ্রাস্ফীতি রোধ করতে বিদেশী সংস্থার কাছ থেকে ৫০০ কোটি ডলারের পরিবর্তে দেশের সোনা বন্ধক রাখার চন্দ্রশেখরের পরিকল্পনা প্রণয়নের চেষ্টা; দেশের সোনা বেচে, বাজারের চাহিদা হ্রাস করে, জিনিষপত্রের দাম কমিয়ে উৎপাদন সংকট ও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের এই রিকার্ডোপন্থী মতধারা ভ্রান্ত কারণ বাজারে টাকার সারকুলেশান নির্ভর করে উৎপাদনের উপর, উল্টোটা নয়।

—– অটল বিহারী বাজপেয়ীর প্রধানমন্ত্রীত্বকালে নিয়ন্ত্রণহীন সুদের কারবার জনিত অর্থনৈতিক সংকট।

—– ১৯৯৯ সালের প্রোজেক্ট ‘ইন্ডিয়া শাইনিং’: সরকারি ক্ষেত্রগুলির বেসরকারিকরণ; বালকো, মারুতি, বি পি সি এল, খনিজ তেল সংস্থা, ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্স-এর বেসরকারিকরণ।

—– বিদেশী মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন বাতিল।

—– রাষ্ট্রায়ত্ত ক্ষেত্রের ১ লক্ষ চাকরীর আসন কমিয়ে দেওয়া হয়; বীমা ক্ষেত্রে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের শেয়ার ৫১% থেকে ৩৩%।

—– ২০০১ সালে আমদানি ক্ষেত্রে সরকারি নিয়ন্ত্রণ তুলে নেওয়া হয় ওয়ার্ল্ড ট্রেড অরগানাইজেশান-এর নির্দেশ মেনে।

২২। মনমোহন সিং (১৯৯১-৯৬; ২০০৮-০৯; ২০১২)

—– বিশ্বায়নের অর্থনীতির সূচনা; দেশে নয়াউদারবাদের প্রবেশ।

—– ১৯৯২ সালে বেসরকারি সংস্থার দাম ও শেয়ারের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণকারী ‘কন্ট্রোলার অফ ক্যাপিটাল ইস্যুজ’ নামক সংস্থা বন্ধ করে দেওয়া হয়।

—– ‘সেবি’ আইন প্রণয়নের মধ্য দিয়ে বেসরকারি সংস্থাগুলির বিদেশী ক্যাপিটাল জোগাড়ের ছাড়পত্র প্রদান।

—– ১৯৯৪ সালে ন্যাশনাল স্টক একচেঞ্জ-এর প্রতিষ্ঠা।

—– বিদ্যুৎ, চাল, গম, চিনির দাম বৃদ্ধি। দেশজুড়ে ব্যাপক বেকারত্ব।

—– প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগঃ বিদেশী পণ্যের উপর ধার্য কর ৮৫% থেকে নেমে ২৫%-এ।

—– গ্যাট চুক্তির শর্ত অনুযায়ী গণবন্টন ব্যবস্থার সংকোচন কৃষক ও শ্রমিকদের দুরাবস্থা বাড়ায়।

—– পূর্ণ পুঁজিবাদী ব্যবস্থার পত্তন; ‘সামন্ত মালিক-কৃষক’ থেকে ‘জমির মালিক-বিনিয়োগকারী-কৃষক’ সম্পর্কে রূপান্তর।

—– ২০০৮ সালে অর্থনৈতিক মন্দা; ২০১২ সালে খুচরো ব্যবসায় বিদেশী বিনিয়োগ।  

২৩। পি চিদম্বরম (১৯৯৬-৯৭, ১৯৯৭-৯৮, ২০০৪-২০০৮, ২০১২-১৪)

—– যুক্তফ্রন্ট সরকার থাকাকালীন রপ্তানি সুনিশ্চিত করতে আমদানির উদারীকরণের প্রস্তাব।

—– ১৯৯৭ সালের তাঁর ড্রিম বাজেটে পুঁজিপতিদের কর মুকুবের পরিকল্পনা।

—– ২০০৫ সালে ভ্যাট সংক্রান্ত কর ব্যবস্থার প্রণয়ন; জি এস টি-র প্রাক্‌-প্রস্তুতি এই ব্যবস্থায় করের হার সাপ্লাই চেনে ক্রেতার অবস্থানের নিরিখে বাড়তে থাকে।

—– টেলিকমে ৭৪% প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগ।

—– ব্যাপক বেকারত্ব, শ্রমিক ছাঁটাই, কৃষক আত্মহত্যা।

—– লোহা, ইস্পাত, কয়লায় বেসরকারিকরণ।

—– ২০১৯ সালে আই এন এক্স মিডিয়া সংক্রান্ত টাকা পাচার দুর্নীতি কাণ্ডে সি বি আই হেফাজতে।

২৪। ইন্দর কুমার গুজরাল (১৯৯৭)

—– কয়লা, লিগ্নাইট ও পেট্রো পণ্যের লাইসেন্স তুলে নেওয়া হল।

—– রাষ্ট্রায়ত্ত ক্ষেত্রের ৭৪% ইকুইটি শেয়ার বিদেশী পুঁজির হাতে ছেড়ে দেওয়া হল।

২৫। যশবন্ত সিং (১৯৯৬, ২০০২-২০০৪)

—– কৃষিক্ষেত্রে সরকারি বিনিয়োগ ও ভর্তুকি প্রত্যাহারের ফলে মহাজনী সুদের কারবারের রমরমা; ৭০০০ কৃষক আত্মহত্যার ঘটনা।

—– রাষ্ট্রায়ত্ত ক্ষেত্রে ৩ লক্ষ ২৫ হাজার চাকরীর সুযোগ প্রত্যাহার।

—– তন্তুর মূল্যবৃদ্ধির ফলে তাঁত শিল্পে সংকট।

—– ৪ কোটি ১২ লক্ষ বেকার।

—– আন্তর্জাতিক ট্রিপ্স চুক্তি অনুযায়ী ওষুধের দাম বৃদ্ধি।

—– রেশন ব্যবস্থার সংকোচন। 

২৬। অরুণ জেটলি (২০১৪-১৯)

—– ২০১৬ সালে কালো টাকা উদ্ধারের হিড়িক তুলে ৫০০ ও ১০০০ টাকার পুরনো নোট বাতিল করে ৫০০ ও ২০০০ টাকার নোট বাজারে এনে শ্রমিক ও খুচরো ব্যবসায়ীদের ক্ষতিগ্রস্থ করা হয়। কালো টাকা উদ্ধারের ভুঁয়ো হিড়িক তুলতে ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্কের তথ্য বিকৃতি পর্যন্ত করা হয় সরকারি রিপোর্টে! কারখানার ঝাঁপ একের পর এক পড়তে থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়ে হাজার হাজার শ্রমিক। মন্দা পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে সারকুলেশানে থাকা টাকা তুলে নিয়ে মার্কেট স্টেবিলাইজেশান-এর চেষ্টা চলতে থাকে।

—– নীরব মোদী, মেহুল চোক্সির মত কালো টাকার কুবেরদের বিদেশে গিয়ে গা ঢাকা।

—– ২০১৭ সালে বলবত হয় জি এস টি অর্থাৎ “এক দেশ, এক কর, একচেটিয়া”। আয়করের বদলে এই ঘাড়ে চাপা ব্যয় কর একদিকে খুচরো ও মাঝারী ব্যবসায়ীদের কোমর ভেঙে দিয়ে বড় কর্পোরেটদেরই যেমন তোষণ করছে, তেমনই অন্যদিকে শ্রমিক ছাঁটাই ও ব্যাপক কর্মসংস্থান হ্রাসের পথ প্রশস্ত করছে। ধাক্কা খাচ্ছে প্রোডাকশান সেক্টর।

—– রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাঙ্কগুলির অনাদায়ী ঋণের বোঝায় বেহাল দশা; মার্জারের ঔষধি হিসেবে এফ আর ডি আই বিল পাশের চেষ্টা।  

২৭। পীযূষ গোয়েল (২০১৮-১৯)

—– সিঙ্গেল ব্র্যান্ড রিটেইলে ১০০% প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগের প্রস্তাব।

—– ব্যাপক কর্মসংস্থান হ্রাস।

২৮। নির্মলা সীতারামন (২০১৯)

—– ২০১৯ জি ২০ বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রাইভেট সেক্টরের উপর থেকে করের বোঝা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।

—– ডিজিটাল অর্থনীতির পরিকল্পনা; দেশের গরীব গুর্ব মানুষ সেই অন্ধকারেই।

—– স্বাস্থ্য ক্ষেত্রেও বিদেশী বিনিয়োগ।

—– স্বনির্ভর গোষ্ঠীকে আর্থিক অনুদান ও ঋণদানের চিরাচরিত ঘোষণা; কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে মুখে কুলুপ।

—– বর্তমান একনমিক স্লোডাউন কমাতে নিদানঃ “ফরেন পোর্টফলিও ইনভেস্টার”দের উপর সারচার্জ রদ, “কর্পোরেট সোশ্যাল রেস্পন্সিবিলিটি” উল্লঙ্ঘন শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে না (!), হাউসিং কোম্পানিগুলিকে ২০,০০০ কোটি টাকার সাহায্য, সরকার সরাসরি গাড়ি কিনে অটোমোবাইল শিল্পের চাহিদা তৈরি করবে, উদ্যোগপতিদের উপর ধার্য এঞ্জেল ট্যাক্স তুলে নেওয়া হবে, প্রভৃতি…

বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটের পরিণতিতে আগামীদিনে দেশের সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের ঝোলায় আর কি কি খাঁড়া নেমে আসতে চলেছে, সেটাই এখন দেখার… 

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *