২০১৯-এর লোকসভা ভোটের আগে ৫ রাজ্যে বিধানসভা ভোটকে কেন্দ্র করে বাজারচলতি সংবাদমাধ্যম যেভাবে কংগ্রেসের নব-উত্থানের কাহিনী রচনা করছে, তাতে মনে হওয়াটাই স্বাভাবিক যে বিজেপির এই ব্যাপক পরাজয় আদতে গান্ধী পরিবারের রাজপুত্রেরই ম্যাজিক।
কিন্তু আদৌ কংগ্রেস এবং তার জোট সঙ্গীদের ‘পক্ষে’-ই বা কতটা ভরসা রেখেছে দেশের জনগণ?
খেয়াল করলে দেখা যাবে মাত্র পাঁচ বছর আগে তৈরি হওয়া তেলেঙ্গানা ছাড়া সবকটি রাজ্যেই সরকার বদলে দিয়েছে জনগণ, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান ও ছত্তিসগড়ে হেরেছে বিজেপি, আর মিজোরামে পরাজিত হয়েছে সরকারে আসীন থাকা কংগ্রেস। অর্থাৎ নির্বাচনগুলি দেখিয়ে দিচ্ছে যে সরকার পরিবর্তন, তথা প্রতিষ্ঠান বিরোধিতাই এসময়ে দেশব্যাপী জনগণের প্রধান তাগিদ।
এমনিতেও রাজস্থানে পাঁচ বছর পরপর সরকারের অদলাবদলি একটা চলতি প্রথা; তার ওপর কৃষক আন্দোলন বসুন্ধরা রাজে সরকারের মুখোশ আরও খুলে দেয়, যদিও কংগ্রেসের লেজ ধরা বামেদের নিজেদের আন্দোলনের লাভের গুড়ও উঠেছে কংগ্রেসের ঝোলায় ! ১৫ বছর ধরে ছত্তিসগড়ে রাজত্ব করা বিজেপি বেরোজগারি, দারিদ্র্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য সহ কার্যত কোনও বিষয়েই কোন প্রকার সদর্থক ভূমিকা রাখতে পারেনি। আবার মধ্যপ্রদেশেও ১৪ বছরের গেরুয়া সরকার কর্পোরেট তোষণ ছাড়া আর কিছুই করেনি। ফলে নির্বাচনে প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা হয়ে দাঁড়িয়েছিল এক স্বাভাবিক বিষয়।
তার সাথে দেশ জুড়ে মোদী সরকারের নয়াউদারবাদ-এর পক্ষে দাঁড়িয়ে অকথ্য দমন নীতি জনগণকে ব্যাপক বিক্ষুব্ধ করে তুলেছে, নির্বাচনে যার প্রভাব অবশ্যম্ভাবী। কিন্তু ‘রাহুল ম্যাজিক’-এর প্রচারের আলোয় মহামান্য মোদী সরকারের মানুষকে পিষে মারার কার্যক্রমগুলিকে স্মৃতির অন্ধকারে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। আসলে আগামী দিনে কংগ্রেস সরকারে এলেও তো একই কার্যক্রম গ্রহণ করবে, তাই না !
উপরন্তু মনে রাখা দরকার, মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থান, এই দুই প্রধান রাজ্যেই কংগ্রেস এবং বিজেপির প্রাপ্ত ভোটের পরিমাণ প্রায় একই। আর সত্যিই যদি ‘রাহুল ম্যাজিক’ কাজ করত, তবে তেলেঙ্গানা ও মিজোরামে কংগ্রেস মুখ থুবড়ে পড়লো কেন ! আর ‘সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী মহাজোট’-এর ধুয়ো তোলার চেষ্টা করলেও নিজেকে ‘আরও বড় হিন্দু’ প্রমাণের মরিয়া চেষ্টাই যে ছিল রাহুলের নেতৃত্বে কংগ্রেসের প্রচারে, তা সবাই দেখেছেন। সবে মাত্র তৈরি হওয়া তেলেঙ্গানায় প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা এখনও প্রকাশ না পাওয়ায় তাই জোর ধাক্কা খেয়েছে মহাজোটের মডেল। আবার, দশ বছর ধরে শাসক হিসেবে কংগ্রেসের নয়াউদারবাদী শোষণ ও দমননীতি মিজো ন্যাশনাল ফ্রন্টকে জিততে সাহায্য করেছে মিজোরামে।
অতঃপর ! ‘মুদ্রার এপিঠ নয় ওপিঠ’-এ ‘ম্যাজিক্যাল’ কিছু আছে কি?

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *