(‘জবরদখল’ পত্রিকায় ১৭ই নভেম্বর ২০১৪-এ প্রকাশিত)

স্বাধীনতা কার? এ প্রশ্ন বহুকালের। ভূখন্ডবাসীর বললেও শ্রেণীবিভক্ত সমাজে সবাই একই পংক্তিতে পড়েন না। মুখে কেউ স্বীকার করুন বা না করুন, এই ভারতবর্ষের মধ্যেই দুটো ভারত আছে। একদল না খেয়ে প্রত্যেকদিন লক্ষ লক্ষ মরে — আরেকদল বেশী খেয়ে রোগে ভুগে মরে। মৃত্যু ছাড়া এই দু’দল ভারতবাসীর আর কোনো মিল আমার এই ক্ষুদ্র বুদ্ধিতে ধরা পড়ে না।

স্পষ্ট কথা স্পষ্ট করে বললে অনেকেরই কষ্ট বেড়ে যায়; ভারতবর্ষের স্বাধীনতা উদ্‌যাপনে কাদের উৎসাহ বেশী? বুভুক্ষু জনতার না কামানেওয়ালাদের? ৯৯ শতাংশ ক্ষেত্রে আমার অভিজ্ঞতা এই যে, যিনি ঘটা করে স্বাধীনতার তেরঙ্গা পতাকা তোলেন, তিনি সেই এলাকা বা প্রতিষ্ঠানের সব থেকে অধম ব্যক্তিদের একজন। দেশের পতাকা যারা এতকাল ১৫ই আগষ্ট তুলে এসেছেন দেশের মানুষ তাদের সম্পর্কে খুব একটা সু-বিশেষণ প্রয়োগ করেন এমনটা নয়। অনেকেই দুর্নীতি বা বহুবিধ কেলেঙ্কারিতে ভূষিত। ভারতবর্ষের বর্তমান কোটিপতি সাংসদের কাছে স্বাধীনতার অর্থ আরও কামানো না জনগণের মুক্তি? মানুষকে দাস বানিয়েই তো অর্থের এই পাহাড় — তাহলে স্বাধীনতা দিবসে তাদের শপথ আরও কামানোর, দেশবাসীর আরও স্বাধীনতা হরণের। রাষ্ট্রায়ত্ত ক্ষেত্রের যে কর্ণধার পতাকা তোলেন, তিনি দেশবাসীর ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অর্থে গড়ে ওঠা সেই প্রতষ্ঠানকে ৩৬৪ দিন বেসরকারী পুঁজিপতির হাতে বিক্রি করে দেবেন এই দাসখত-এর বিনিময়ে উক্ত পদাধিকার অর্জন করেছেন। যে জমিদার গ্রামে পতাকা তোলেন, তিনি কৃষককে আরও শোষণ করার অঙ্গীকার করেন ১৫ই আগস্ট। বিচারব্যবস্থা আর বিচারপতিরা মানুষের অধিকার রক্ষা করেছেন না হরণ তা একবার যাদের কোর্টে যেতে হয়েছে তারাই ভাল বলতে পারবেন। বড়ো পুঁজির মালিক ছাড়া বড়ো মিডিয়া বানানো যায় না — খবরও তাই মুক্ত নয় শুধু হাওয়া তুলে রেটিং ও মুনাফা বৃদ্ধি।  এহেন দেশে পুলিশ-মিলিটারী-আমলাদের তো পোয়াবারো। ৩৬৫ দিনই তাদের কাছে ১৫ই আগষ্টের অবাধ স্বাধীনতা।  বাকী রইল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।  বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের মালিক বন্দেমাতরম্ ধ্বনির আড়ালে আরও একবছর ছাত্রদেরকে দুইয়ে নেওয়ার শপথ নিতে নিতে পতাকা তোলেন। সরকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও একদল শিক্ষক নামধারী ব্যক্তি স্বেচ্ছায় স্বাধীনতা বিসর্জন দিয়ে প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ পদে আসীন হয়ে পতাকা তোলার অধিকারী হন! ব্যতিক্রম কিছু সমবায়, অ্যাসোসিয়েশন,  অবৈতনিক স্কুল, প্রকৃত  সেবামূলক কেন্দ্র ও অব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। অনেক সৎ ও প্রকৃত বিদ্বজ্জন এই সব প্রতিষ্ঠানে স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন করে থাকেন, কিন্তু মনে রাখতে হবে, আমাদের মতো দেশে এইসব প্রতিষ্ঠানকে টিকে থাকতে হয় সরাসরি সরকার ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়াই করে, এবং তাদের সততা ও নিষ্ঠা ব্যবস্থার অঙ্গ নয়, বরং উল্টোটা, বিদ্রোহজাত। মোটের ওপর আমি আমার যুক্তি থেকে সরছি না। আমার ক্ষুদ্র দৃষ্টিতে এখনও ধরা পড়েনি — কোনো নিরন্ন দীনহীন ভারতবাসী শতছিন্ন পোষাক পরে ১৫ই আগষ্ট সূর্যোদয়ের আগে থেকেই তেরঙ্গা ঝান্ডা নিয়ে ছোটাছুটি করছেন। ১৯৪৭-এ কয়েকজন করে থাকলেও ২০১৯-এ একজনও করবে না।

পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় পুঁজির স্বাধীনতা ভিন্ন অন্য কোনো স্বাধীনতা স্বীকৃত নয় — বড়োজোর পুঁজির স্বাধীনতার প্রয়োজনে যতটুকু স্বাধীনতার চর্চা করা সম্ভব ততটুকুই মান্যতা পায়। বোধশক্তি সম্পন্ন সব ভারতবাসীই এসব কথা জানেন, বোঝেন। কিন্তু তারা নিজ যুক্তির সারবত্তা খোঁজেন বিচারধারার উৎকর্ষে নয় — কতজন ‘ঠিক’ বলল তার উপর। অবশ্যই ‘Number represents logic to some extent’, কিন্তু তাহলে যে গ্যালিলিও ভুল হয়ে যান। স্থান-কালের সীমার মধ্যে সত্যের অনুসন্ধান শুধু খন্ডিত সত্যেরই সন্ধান দেয়, যা রবীন্দ্রনাথের ভাষায় — বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই মিথ্যার সামিল।

আমি মানুষের পরিপূর্ণ মুক্তির আকাঙ্ক্ষায় আস্থাশীল বলেই এই যুক্তির অবতারণা করছি; এই আকাঙ্ক্ষাকে হেয় বা ছোটো করার জন্য নয়। ‘গোরা’ উপন্যাসে রবীন্দ্রনাথ দেখিয়েছেন আমাদের পরিচয় কোনো ভূখণ্ডের অধিবাসী হিসাবে নয় — আমরা প্রত্যেকেই বিশ্বমানবের সন্তান। ভারতবর্ষকে পুনরাবিষ্কার করে রবীন্দ্রনাথ এক মহত্তর সত্যকে প্রতিষ্ঠা করলেন — কোনো খন্ড জাতীয়তাবোধ থেকে নয়। মার্কস শিখিয়েছেন, মানুষের যুথবদ্ধ সংগ্রামই ঐতিহাসিক সত্য — ইতিহাসের চালিকাশক্তি — কোনো ভূখণ্ডের জায়গীরদারীর লোলুপ দৃষ্টির হীনতা দিয়ে এর ব্যখ্যা চলে না। জাতীয়তাবাদের ধ্বজা নিয়ে যারা সামনে এসে দাঁড়ান তারা ভারত ভূখণ্ডের নতুন ‘ইংরেজ’ এ সত্য আজ আমরা মর্মে মর্মে অনুভব করছি। ১৯৪৭-এ যতটুকু ধোঁয়াশা ছিল আজ তা সম্পূর্ণ কেটে গেছে। পুঁজিবাদ আরও পচেছে — ১০ লক্ষ ইংরেজ-এর মধ্যে ১টা ডেভিড হেয়ার পাওয়া যেত — বড়োলোকতম ১ কোটি ভারতীয়র মধ্যে একজনও সেই গোত্রীয় পাওয়া যাবে না। দেশের মানুষের মুক্তির ইচ্ছার সিঁড়ি এরা ইংরেজদের সাথে আপোষ রফা করেছেন দেশের সম্পদের ( প্রাকৃতিক, মানব সবই)  ভাগ বাঁটোয়ারার শর্ত মেনে। এরাই পাঠ্য বইয়ে স্বাধীনতা সংগ্রামের আপোষহীন বীর বিপ্লবীদের ‘সন্ত্রাসবাদী’ আখ্যা দেন — এরাই মিলিটারী মজদুরদের স্বাধীনতার লড়াইকে সাধারণ ‘সিপাহী বিদ্রোহ’-এর তকমা এঁটে দেন। জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার আগের সমস্ত কৃষক সংগ্রাম, আদিবাসী বিদ্রোহ-কে এরা সিলেবাসে বাইরে পাঠিয়ে দেন। এরা ভগৎ সিং-এর ফাঁসি, জালিয়ানওয়ালাবাগের হত্যাকান্ডে চতুর মৌনতা অবলম্বন করেছিলেন। পূর্ণ স্বরাজের দাবী ইংরেজ বাহাদুরদের কাছে উত্থাপন করতে এদের প্রায় হিক্কা উঠে গিয়েছিল। এদের ভাবধারার পরের প্রজন্ম জরুরী অবস্থার সমর্থক — হালে যারা কোলকাতাকে লন্ডন বানানোর স্বপ্ন দেখছে! আত্মসুখী, স্লোগানসর্বস্ব, পলায়নপর, রাজনীতিজীবি এই সব জাতীয়তাবাদীদের রবীন্দ্রনাথ তীব্র কষাঘাতে জর্জরিত করেছেন ‘ঘরে বাইরে’ উপন্যাসে ‘সন্দীপ’-এর চরিত্রে।  শুধু এখানেই নয়, রবীন্দ্রসৃষ্টির ছত্রে ছত্রে জাতীয়তাবাদী মোহের বিরুদ্ধে আদর্শগত সংগ্রাম পরিলক্ষিত হয়। দেশের মানুষকে বাদ দিয়ে যারা দেশের স্বাধীনতা নিয়ে বেশী ব্যস্ত, রবীন্দ্রনাথ তাদের বিরূদ্ধে খড়্গহস্ত।

“…..আধুনিক পলিটিক্সের শুরু থেকেই আমরা নির্গুন দেশপ্রেমের চর্চা করেছি, দেশের মানুষকে বাদ দিয়ে। এই নিরুপাধিক প্রেমচর্চার অর্থ যাঁরা জোগান তাদের কারও বা আছে জমিদারী, কারও বা আছে কারখানা; আর শব্দ যাঁরা জোগান তাঁরা আইনব্যবসায়ী। এর মধ্যে পল্লীবাসী কোনো জায়গাতেই নেই; অর্থাৎ আমরা যাকে দেশ বলি সেই প্রতাপাদিত্যের প্রেতলোকে তারা থাকে না। তারা অত্যন্ত প্রতাপহীন — কি শব্দসম্বলে, কি অর্থসম্বলে।……

….. যে স্নায়ুজলের যোগে অঙ্গঃপ্রত্যঙ্গের বেদনা দেহের মর্মস্থানে পৌঁছয়, সমস্ত দেহের আত্মবোধ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের বোধের সম্মিলনে সম্পূর্ণ হয়, তার মধ্যে যদি বিচ্ছিন্নতা ঘটে তবে তো মরণদশা। সেই দশা আমাদের সমাজে। দেশকে মুক্তিদান করবার জন্যে আজ যারা উৎকট অধ্যাবসায়ে প্রবৃত্ত এমন সব লোকের মধ্যেও দেখা যায়, সমাজের মধ্যে গুরুতর ভেদ যেখানে, সেখানে পক্ষাঘাতের লক্ষণ, সেখানে তাদের দৃষ্টিই পড়ে না।”

দেশপ্রেমের স্লোগানের পিছনে আসলে এরা দেশদ্রোহীর পতাকা গোপনে বয়। এদের কাছে স্বাধীনতার মর্মবস্তু “নতুন ভারত গড়ার শপথ নয়” নয়। ১৫ই আগষ্ট-এর গানা ‘পাগলু ড্যান্স’। 

এতকাল ভারতবর্ষের বামপন্থীরা এই অপসংস্কৃতির বাইরে ছিল। কলজের জোর যাদের ছিল — তারা বলেছিল, বুঝেছিল, “ইয়ে আজাদী ঝুটা হ্যায়”। এই উচ্চারণকে স্লোগান হিসাবে দেখে তার ভুল ঠিক করতে যাওয়া  মূর্খামি। অর্জিত স্বাধীনতা-কে অসম্মান নয় বরং বামপন্থীদের সেই সিদ্ধান্ত মানুষের অপরাজেয় মুক্তি আকাঙ্ক্ষার প্রতি প্রকৃত সম্মান জানানো — সমস্ত রকম শোষণ-নির্যাতনের শৃঙ্খল ছিন্ন করার ‘অসীম আশাবাদ’। রক্তস্নাত স্বজন-বন্ধু বিয়োগান্ত চিন-বিপ্লবের অব্যবহিত পরেই মাও সে তুঙ স্মরণ করিয়ে দেন, “মহান চীনা জনগণের বিপ্লবী কর্মসূচির এখন ক্লাইম্যাক্সও নয়, বরং সূচনা মাত্র”।

বিপ্লবী আওয়াজ দেওয়ার ধক না থাকলে, কলজে শুকিয়ে গেলে, তাই তেরঙ্গা তুলে আত্মসমর্পণের ইঙ্গিত দিতে হয়। মুখে না বলেও বুঝিয়ে দেওয়া যায়, “আমরা ব্যবস্থাটার প্রতি আস্থাশীল — বিতর্ক শুধু সরকারে কে থাকবে তাই নিয়ে”। ব্যবস্থাটা বুর্জোয়া ‘একনায়কত্ব’ নয়, বুর্জোয়া ‘গণতন্ত্রই’, এই প্রচারকে মান্যতা দেওয়া হয়। সমাজের খোলনলচে বদলের স্বপ্ন আর পরনো কত কথা দাসত্বের ক্ষুধিত বশ্যতার হাহাকারে পর্যবসিত হয়। হাস্যকর বিষয় একটাই। এ সবই করা হয় “মানুষ এসব চাইছে” আর “পরিস্থিতির পরিবর্তন”-এর অজুহাতে। জেলে পচে মরা গ্রামসীর “সম্মতির নির্মাণ” বামপন্থীদের কাছে এক স্মৃতির মতো। স্বাধীনতার খোয়াবে অনাক্রান্ত কমরেড লেনিনের চেতাবনি বোধহয় তাদের সরকার চালাতে গিয়ে পড়া হয়ে ওঠেনি সময়ের অভাবে।

“বুর্জোয়া গণতন্ত্র শুধু গালভরা কথার, জমকালো বুলির, সাড়ম্বর প্রতিশ্রুতির আর স্বাধীনতা ও সাম্যের বড়ো ধ্বনির গণতন্ত্র। কিন্তু কাজের বেলায় এই গণতন্ত্র মেয়েদের স্বাধীনতা-হীনতা ও অসাম্য, মেহনতী ও শোষিতদের স্বাধীনতা-হীনতা ও অসাম্যকে আড়াল করে।…..

….ধ্বংস হোক এই জঘন্য মিথ্যা! অত্যাচারী ও অত্যাচারিতের মধ্যে, শোষক ও শোষিতের মধ্যে কখনও ‘সাম্য’ হতে পারে না, নেই, হবে না। যতক্ষণ না পুরুষের আইনগত বিশেষ সুবিধা থেকে মেয়েরা স্বাধীনতা পাচ্ছে, যতক্ষণ পুঁজির কবল থেকে শ্রমিকের এবং পু্ঁজিপতি, জমিদার ও বণিকের জোয়াল থেকে মেহনতী কৃষকের স্বাধীনতা না থাকছে, ততক্ষণ প্রকৃত ‘স্বাধীনতা’ হতে পারে না, নেই, হবে না।

মিথ্যাবাদী ও ভন্ডেরা, নির্বোধ ও অন্ধেরা, বুর্জোয়া ও তাদের সমর্থকেরা সাধারণ স্বাধীনতা, সাধারণ সাম্য ও সাধারণ গণতন্ত্রের কথা বলে লোক ঠকাবার চেষ্টা করতে চায় করুক।

শ্রমিক ও কৃষকদের কাছে আমরা বলি : মুখোশ খুলে দাও এই  সব মিথ্যাবাদীদের, চোখ খুলে দাও এই সব অন্ধদের। জিজ্ঞাসা করো : 

নারী পুরুষ কার সঙ্গে কার সাম্য?

কোন জাতির সঙ্গে কোন জাতির সাম্য?

কোন শ্রেণীর সঙ্গে কোন শ্রেণীর সাম্য?

কোন জোয়াল থেকে অথবা কোন শ্রেণীর জোয়াল থেকে স্বাধীনতা? কোন শ্রেণীর জন্য স্বাধীনতা?

এই প্রশ্নগুলি না উত্থাপন করে, তাদের সর্বাগ্রে স্থান না দিয়ে, এগুলি লুকাবার, ধামাচাপা দেওয়ার ও এড়িয়ে যাওয়ার বিরূদ্ধে লড়াই না করে যে রাজনীতি গণতন্ত্র, স্বাধীনতা,  সাম্য ও সমাজতন্ত্রের কথা বলে সে মেহনতকারীদের চরম শত্রু, মেষচর্মে সে নেকড়ে, শ্রমিক ও কৃষকের অতি কুটিল প্রতিপক্ষ এবং জমিদার, জার ও পু্ঁজিপতি ভৃত্য।”

আর “পরিস্থিতির পরিবর্তন”-এর দোহাই দেওয়া বামপন্থীদের কাছে এক হাস্যকর ব্যাপার কারণ পরিস্থিতির পরিবর্তনের শক্তি হিসাবেই তাদের সমাজে জন্ম।

পরাধীনতার গ্লানি আর আত্মত্যাগের প্রাথমিক সাফল্য অর্জনের ৭২ বছর বাদে তেরঙ্গা আর বন্দেমাতরম আজ আত্মসিদ্ধির প্রতীকে পরিণত হয়েছে। স্বাধীনতা দিবস উদ্‌যাপনে জাঁকজমকের আড়ালে এই সত্যকে শাসকরা চাপা দিতে চায়। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ জোসেফ স্টিগলিজ আমাদের স্মরণ করিয়ে দেন আমেরিকা যখন কোনো দেশ দখল করতে যায় তখন অভিযানের নাম দেয় “Operation freedom”! এদেশেও তাই। ১৫ই আগষ্ট পালনে বোঝানোর চেষ্টা করা হয় — চল ভাই আমরা সবাই স্বাধীন, কেউ যেন আবার নিজেকে শোষিত, অত্যাচারিত ভেবে বোসো না। 

দেশের মানুষ যখন এসব নাটক বুঝে গেছে, ঠিক তখনই বামপন্থীদের একাংশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে তেরঙ্গাবৃত্তে প্রবেশ করতে চাইছেন। মানুষ এদের ক্ষমাঘেন্না করে দুচারটে ভোট দিতে পারে কিন্তু কখনও সম্মান করবে না, সিকিভাগ শক্তি নিয়ে এদের পূর্বসূরীরা যে সম্মান পেয়ে থাকতেন। কমরেড লেনিন বলতেন, “মানুষের বিশ্বাস হারানো ছাড়া আর কিছু হারানোর ভয় আমি করি না”। বিশ্বাস অর্জন করতে অর্ধশতাব্দীর সংগ্রামও যথেষ্ট নয়; ভাঙতে কিন্তু একদিনই যথেষ্ট। আত্মহরনকারী এই সিদ্ধান্তকে ভুল প্রমাণ একদিন বামপন্থীদেরই করতে হবে, সিদ্ধান্তকারীদের কেউ কেউ তখন সদর দপ্তরে তালা লাগাচ্ছেন, কেউ বা সব অধঃপতিতের আশ্রয়স্থল আমেরিকায় হলিউডী সতী-সাধ্বী বারাঙ্গনাদের হাত ধরে নিভৃতে কৃতকর্মের সুখস্মৃতি রোমন্থন করছেন!

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *