পশ্চিমবঙ্গ এই বছরে উষ্ণতম প্রাক-বর্ষা অনুভব করল। জুন মাসের মাঝামাঝি যা আসলে পশ্চিমবঙ্গ  তথা ভারতে বর্ষার সূচনা বলে ধরা হয়, সেই সময়ে তাপমাত্রার পারদ ছুঁয়েছিল ৪১ ডিগ্রি অবধি। ২০ শে জুলাই পাটনার তাপমাত্রা ছিল ৪১.৬ ডিগ্রি। ওই মাসের অধিকাংশ দিনেরই তাপমাত্রা তাদের ঐতিহাসিক গড়ের থেকে ৩-৪ ডিগ্রি বেশি ছিল, যা মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের শেষ থেকে তৃতীয় সপ্তাহে ৪-৮ ডিগ্রির ব্যবধানে গিয়ে দাঁড়ায়। প্রায় একই দৃশ্য দেখা গিয়েছিল জুলাই মাসের আবহাওয়াতেও যেখানে এই পার্থক্য (বর্তমান তাপমাত্রার সঙ্গে ঐতিহাসিক গড়ের) ছিল ২-৩ ডিগ্রির। 

এটি যে শুধু কলকাতা বা পশ্চিমবঙ্গেরই একান্ত বৈশিষ্ট্য নয়, তা পরিষ্কার হয়ে যায় ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তরের তরফ থেকে প্রকাশিত হওয়া একটি রিপোর্ট থেকে, যেখানে দেশব্যাপী ২৮১ টি মেটেরোলজিকাল স্টেশনের মাধ্যমে বিগত ৬০ বছরের তাপমাত্রার তথ্য সংগ্রহ করে ভারতের জলবায়ু পরিবর্তনের একটি প্রবণতা দেখানো হয়েছে। এখানে দেখা যাচ্ছে যে এই ৬০ বছরব্যাপী ভারতের পৃষ্ঠতলের তাপমাত্রা উল্লেখ্যযোগ্যভাবে বেড়েছে। বার্ষিক, মরসুমি (শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা ও বর্ষা পরবর্তী) এবং মাসিক গড় উষ্ণতার প্রবণতা–এই তিনটি ভাগে ভাগ করা এই রিপোর্ট–যেখানে উল্লেখযোগ্য যে ভারতবর্ষের প্রায় সব রাজ্যেই জুন-জুলাই মাসের তাপমাত্রা অর্থাৎ প্রাক-বর্ষা মরসুমের (এখন আদতে বর্ষাকাল জুলাই থেকে সরতে সরতে অগাস্ট মাসে ঠেকেছে) তাপমাত্রা ব্যাপকহারে বেড়েছে। চক্ষু চড়কগাছ হওয়ার মতো একটি বিষয় হল পশ্চিমবঙ্গের গ্রীষ্মকালীন তাপমাত্রা বৃদ্ধির কোন প্রবণতা কিন্তু লক্ষ্য করা না গেলেও প্রাক-বর্ষা সময়ে তাপমাত্রা বেশ বেড়েছে। গোবাল ওয়ার্মিংয়ের ফলে জলবায়ুরও যে ব্যাপক পরিবর্তন হচ্ছে তা বেশ পরিষ্কার এই রিপোর্ট থেকে। অনিয়মিত বৃষ্টিপাত এবং কাছাকাছি অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের তারতম্য, যা আগে দেখা যায় নি, চোখে আঙ্গুল দিয়ে এই বিষয়টিকে দেখিয়ে দেয়।  

কিন্তু তারপরও টনক নড়ছে না সরকারের। এনভারনমেন্টাল পারফরমেন্স ইন্ডেক্সের (ই পি আই)  নিরিখে ভারতের স্থান ১৮০ টি দেশের মধ্যে শেষ পাঁচে, ২০১৬-র ১৪১ তম  থেকে নেমে হয়েছে ১৭৭। জানুয়ারি মাসে প্রকাশিত ইয়েল ও কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় এবং ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরামের যৌথভাবে প্রকাশিত এই দ্বিবার্ষিক রিপোর্ট অনুসারে পরিবেশগত স্বাস্থ্য (এনভারনমেন্টাল হেলথ) বিভাগে ভারতের স্থান শেষ দুয়ে।

বায়ুমণ্ডলে বেড়ে চলা কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমানে একদিকে যেমন কোন হ্রাস টানা যাচ্ছে না তেমনই জমে থাকা কার্বন ডাই অক্সাইডকে মুছে ফেলারও কোন পরিকল্পনা নেই আমাদের। আসলে এই সময় দাঁড়িয়ে বর্জ্যের স্তূপই পরিবেশের সমস্যার মূল কারণ। ঠুনকো পণ্য তৈরী হচ্ছে আর কিছুদিন পরেই সেগুলো অব্যবহার্য হয়ে আস্তাকুঁড়ে ঠাঁই পাচ্ছে।  আর  এই সব পণ্য  তৈরী করতে বিপুল জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো হচ্ছে যার ফলস্বরূপ কার্বন ডাইঅক্সাইড তৈরী হচ্ছে আর  জমা হচ্ছে। 

 

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *